Thursday, January 30, 2020

১ ফেব্রুয়ারি থেকে সব ব্যাংকেই আমানতের সুদ ৬%

জিয়াদুল ইসলাম   

১ ফেব্রুয়ারি থেকে সব ব্যাংকেই আমানতের সুদ ৬%

আগামীকাল ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সব ধরনের ব্যক্তি আমানতের সুদের হার ৬ শতাংশ কার্যকর করা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার রাতে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীরা বৈঠক করে এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঋণের ৯ শতাংশ সুদ কার্যকরের দুই মাস আগেই ব্যক্তি আমানতের এই নতুন সুদহার কার্যকর হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোনো সার্কুলার জারি করা হয়নি। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ঋণের নয়-ছয় সুদ কার্যকরে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সার্কুলার জারি করা হবে।
এর আগে গত ২০ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বলা হয়, বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত রাখা যাবে। এই আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদ পাবে সরকারি সংস্থাগুলো। আর সরকারি ব্যাংকে আমানত রাখলে সর্বোচ্চ সাড়ে ৫ শতাংশ সুদ নিতে হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যক্তি আমানতে ৬ শতাংশ সুদ বেঁধে দেওয়া হলে আমানতকারীরা নিরুৎসাহ হবে। বিশেষ করে মানুষ ব্যাংকে আমানত রাখা কমিয়ে দিতে পারে। এ ছাড়া যারা টাকা রাখবে তাদের পক্ষে প্রকৃত মুনাফা ঘরে তোলা কঠিন হবে বলেও মনে করছেন তাঁরা। একই সঙ্গে তারল্য সংকট আরো প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে দুর্বল ভিত্তির ব্যাংকগুলোর। কারণ তখন নতুন-পুরনো সব আমানতকারীই শক্তিশালী ভিত্তির ব্যাংকেই টাকা রাখতে বেশি আগ্রহী হবে। ফলে এর নেতিবাচক প্রভাব সার্বিক ব্যাংকিং খাতের ওপর পড়বে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংকে আমানত রাখা কমলেও সঞ্চয়পত্র ও শেয়ারবাজারে ব্যক্তি বিনিয়োগ বাড়তে পারে। এ ছাড়া অতিমুনাফার টোপ দিয়ে ‘হায় হায়’ কম্পানির দৌরাত্ম্য ও বাসাবাড়িতে টাকা রাখার প্রবণতাও বাড়তে পারে।
জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমানতের সুদহার ৬ শতাংশ হলে নিঃসন্দেহে ব্যক্তি আমানতকারীরা নিরুৎসাহ হবেন। ব্যাংকের আমানতের প্রবৃদ্ধি আরো কমার আশঙ্কা তৈরি হবে। এমনিতেই অনেক দিন ধরেই ব্যাংকিং খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধির হার কমে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, সব আমানতের ক্ষেত্রে সুদের সর্বোচ্চ হার ৬ শতাংশ যদি হয়, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো আরো কম দেওয়ার চেষ্টা করবে। যদি ৬ শতাংশও দেয়, তাহলেও ব্যাংকে টাকা রেখে প্রকৃতপক্ষে কোনো মুনাফা ঘরে তুলতে পারবে না মানুষ। কারণ এখন মূল্যস্ফীতির হারই প্রায় ৬ শতাংশের কাছাকাছি। এর ওপর উৎস কর ও আবগারি শুল্কের বিষয় রয়েছে। সব মিলে ব্যাংকে টাকা রেখে প্রকৃত মুনাফা ঘরে তোলা কঠিন হবে বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ চলতি জানুয়ারি মাসের হালনাগাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ মাসে দেশের ৬০টি তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে ২৫টি ব্যক্তি আমানতকারীদের থেকে তহবিল সংগ্রহে গড়ে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদ দিয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি, বিশেষায়িত দুটি, বিদেশি চারটি ও বেসরকারি ১৩টি ব্যাংক। বাকি ৩৩টি ব্যাংক আমানতকারীদের গড়ে সাড়ে ৯ শতাংশ সুদ দিয়েছে। আগের মাস ডিসেম্বরে ৬০টি ব্যাংকের মধ্যে ২০টি ব্যাংক আমানতকারীদের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদ দিয়েছিল। এর মানে এক মাসের ব্যবধানে পাঁচটি ব্যাংক তাদের আমানতের সুদ কমিয়ে এনেছে।
বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির চেয়ারম্যান ও ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলী রেজা ইফতেখার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ব্যক্তি আমানতের সুদের হার ৬ শতাংশ কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা চাচ্ছি ধাপে ধাপে ব্যক্তি আমানতের সুদের হার ৬ শতাংশে নামিয়ে আনতে। তবে ১ ফেব্রুয়ারিই সব ব্যাংক ৬ শতাংশে নামাবে কি না সেই নিশ্চয়তা এবিবি দিতে পারে না। কারণ এবিবি কোনো রেগুলেটর না। তাই কাউকে বাধ্য করার ক্ষমতাও এবিবির নেই।’
এ পদক্ষেপের কারণে ব্যাংকগুলোতে ব্যক্তি আমানত নিরুৎসাহ হবে কি না জানতে চাইলে এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘সব ব্যাংক আমানতে একই সুদ অফার করলে তেমন একটা সমস্যা হবে বলে মনে হয় না। কারণ সবাই সুদের হার কমালে মানুষ আমানত নিয়ে যাবে কই। বিকল্প হিসেবে সঞ্চয়পত্র থাকলেও সেখানে লিমিট দেওয়া আছে, ইচ্ছামতো কেনা যাবে না। কেউ যদি মনে করে শেয়ারবাজারে যাব, তাহলে সে যাবে, এখানে করার কিছু নেই। কারণ একজন সঞ্চয়কারী তার টাকা কোথায় খাটাবে এটা তারই সিদ্ধান্ত।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার জারির আগে ব্যাংকগুলোর ব্যক্তি আমানতের সুদহার ৬ শতাংশ কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ব্যাংকগুলো এটা করতে পারে। কারণ ব্যাংকগুলো কম সুদে আমানত সংগ্রহ করার পরেই তো কম সুদে ঋণ বিতরণ করবে।
ব্যাংক মালিকরা নয়-ছয় সুদহার বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন ২০১৮ সালের জুনে। ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও সেটা এখনো কার্যকর করেননি ব্যাংক মালিকরা। গত বছরের শেষ সময়ে এসে কমিটি গঠন করে ঋণের সুদহার এক অঙ্কে বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং সেটা নতুন বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকরেরও ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু সার্কুলার জারির আগমুহূর্তে এসে ওই সিদ্ধান্তও ঝুলে যায়। গত ৩০ ডিসেম্বর বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডিদের সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ক্রেডিট কার্ড বাদে সব ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। এ ছাড়া সব ধরনের আমানতের সর্বোচ্চ সুদের হার ৬ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কালের কন্ঠ

Saturday, January 25, 2020

ব্যাংকিং খাত নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়ার সময় এসেছে: মুহিত

 
 Daily Star
 
রেজাউল করিম বায়রন এবং জিনা তাসরিন
ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে ‘এজ ইজ দ্য প্রাইস অব উইজডম’। এই প্রবাদটি আবারও মনে করিয়ে দিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
উদাহরণ স্বরূপ, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে বহুল আলোচিত একক-অঙ্কের ব্যাংক সুদের হার আরোপ করতে যাচ্ছে সরকার। যা কার্যকরভাবে বাজার ব্যবস্থাকে ভেঙে দেবে বলে মনে করেন তিনি।
আজ ২৫ জানুয়ারি ৮৬ বছরে পা দেওয়া মুহিত মনে করেন, সরকারের এমন উদ্যোগে কোনও লাভ হবে না।
ঢাকাতে নিজের বাসায় বসে দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “সরকার ব্যাংকের ওপর এটা চাপিয়ে দিতে পারে, ব্যাংকগুলোও তা মানতে বাধ্য। কিন্তু, ব্যাংকিং খাতে এটি বড় কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।”
কারণ, ব্যাংকিং খাতের মূল সমস্যা হলো উচ্চ খেলাপি ঋণ, যা এখানে চিহ্নিত করা হয়নি।
তার মতে, ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের জন্য প্রয়োজন খেলাপি ঋণ হ্রাস করা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ রেকর্ড হয়েছে ১১৬,২৮৮ কোটি টাকা, যা মোট বকেয়া ঋণের ১১.৯৯ শতাংশ।
“আমরা খেলাপি ঋণ হ্রাস করতে গিয়ে তা প্রচুর পরিমাণে বাড়িয়ে ফেলেছি। যা একটি ভুল ছিল।”
উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক ঋণ সময়সূচি প্যাকেজের কথা উল্লেখ করেন।
“এটি কোনো ভাল উপায় নয়… আমরা কেবল খেলাপি ঋণের সংখ্যা বাড়িয়ে তুলছি। তাই এটা সঠিক উপায় নয় এবং সবজায়গাতেই খেলাপি ঋণ আদায় করা সহজ নয়।”
খেলাপি ঋণ সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, “খেলাপি ঋণ নির্দিষ্ট শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত। আমি কোনও সংখ্যাকে নির্দিষ্ট করে পরামর্শ দিচ্ছি না… এই সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়কে নিতে হবে।”
“যেসব ব্যাংক খেলাপি ঋণের অনুপাত কমাতে ব্যর্থ হবে, তারা নতুন ব্যবসা করার অনুমতি পাবে না। তাদের বিদ্যমান ব্যবসা নিয়ে কাজ করতে হবে, ফলে ব্যাংকগুলো চাপে পড়বে।”
“সুতরাং, তাদের এ বিষয়ে কিছু করতে হবে। আমাদেরও কঠোর হতে হব,” বলেন মুহিত।

তিনি অবশ্য স্বীকার করেছেন, ২০০৯ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি ব্যাংকগুলোকে প্রশ্রয় দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, “আমি ব্যাংকিং খাতকে অনেক সুযোগ দিয়েছি। আমি প্রশ্রয় দিয়েছি।” উদাহরণ হিসেবে ব্যাংকিং (সংশোধন) আইন-২০১৭ এর প্রসঙ্গ টানেন তিনি।
সংশোধনীতে একটি বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ ছয় বছর থেকে বাড়িয়ে নয় করা হয়। এছাড়া পরিচালনা বোর্ডে পারিবারিক কোটা দুই থেকে চার করা হয়। যা একটি বেসরকারি ব্যাংককে একক পরিবারের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়িয়েছে।
“আমি মনে করি প্রশ্রয় দেওয়ার পর্ব এখন শেষ। আমি যদি এখন সরকারে থাকতাম তাহলে, আমি এটি বন্ধ করে দিতাম।”
তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রচুর ব্যাংক রয়েছে। বর্তমানে ৬০টি ব্যাংকের কার্যক্রম চলছে। এরমধ্যে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ১২টি ব্যাংক চালু হয়েছিল।
“আমাদের অনেক ব্যাংক রয়েছে। তবে, আমি কখনোই এগুলো নিয়ে চিন্তিত ছিলাম না। কারণ, আমি ভেবেছিলাম তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে একীভূত হতে বাধ্য হবে এবং সংখ্যায়ও হ্রাস পাবে।”
যখন জানতে চাওয়া হয়, আপনি নিজেই তো ফারমার্স ব্যাংকের একীভূতকরণের সুযোগ পেয়েছিলেন। জবাবে তিনি বলেন, “আমি ভুল করেছি। আমার উচিত ছিল এটিকে বন্ধ করে দেওয়া।”
তিনি জানান, ফারমার্স ব্যাংক চালু রাখতে তার ওপরে কোনও চাপ ছিল না। অনিয়ম ও ঋণ কেলেঙ্কারি থেকে মুক্ত হতে ব্যাংক পরিচালনার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত বছরের জানুয়ারিতে ফারমার্স ব্যাংকের জায়গায় নতুনভাবে পদ্মা ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়।
২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ব্যাংকটি (ফারমার্স ব্যাংক) তিন বছরেরও কম সময়ে আর্থিক অনিয়মের জন্য আলোচনায় উঠে আসে।
দুর্নীতির অভিযোগগুলো নিয়ে তারা নীরব ছিলেন। ফলে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও আমানতকারীরা তাদের অর্থ উঠিয়ে নিতে শুরু করে।
এ কারণে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং সরকার ব্যাংকটিকে উদ্ধারে ব্যবস্থা নেয়। ২০১৮ সালের মার্চে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী এবং একটি পাবলিক মার্চেন্ট ব্যাংক, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন ৭১৫ কোটি টাকার ইক্যুইটি শেয়ার কিনে ব্যাংক জামানত ফেরত দেয়।
বেসিক ব্যাংক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বেসিক ব্যাংক মাত্র একজনের দ্বারা ধ্বংস হয়েছিল। তিনি হলেন শেখ আবদুল হাই বাচ্চু। ব্যাংকটির বর্তমান চেয়ারম্যান খুব ভালো ব্যাংকার এবং তার যোগ্যতার প্রতি আমার অগাধ বিশ্বাস রয়েছে। তবে বাচ্চু যে পর্যায়ে বেসিক ছেড়েছে, সেখান থেকে পুনরুদ্ধার করা খুব কঠিন।”
মুহিত দাবি করেন, বাচ্চু ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক বিবেচনায় বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান হয়েছিলেন।
“সব জায়গাতেই তার ভালো যোগাযোগ ছিল এবং সে তাদের পুরোপুরিভাবে কাজে লাগিয়েছে।”
মুহিত অবশ্য জোর দিয়ে বলেন, এখন আর রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের বোর্ডগুলোতে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া যাবে না।
“এটি আমার সময় থেকেই শুরু হয়েছিল।”
যা ক্ষতি হওয়ার তা ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আটটি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের ৫০ শতাংশেরও বেশি খেলাপি ঋণের অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যার পরিমাণ ৫৯,৬২২ কোটি টাকা।
ব্যাংকগুলোর এই ঋণ ফেরত নিতে সরকার একটি পাবলিক এ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (পিএএমসি) গঠনের পরিকল্পনা করছে। ইতিমধ্যে এর একটি খসড়া আইনও তৈরি করেছে।
সরকারের এই উদ্যোগকে সমর্থন করেন আবুল মাল আবদুল মুহিত।
“আমি মনে করি পিএএমসি পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে পারবে। তবে, এটি নির্ভর করবে সংস্থাটি কোন সম্পদ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেবে এবং কী অবস্থায় বা কী শর্তের বিনিময়ে তা নেবে।”
পিএএমসি যদি কঠোরভাবে তা করে, তাহলে এটি ব্যবহার করে ব্যাংকগুলোর ক্ষতিকর সম্পদ এতে ফেলে দেওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।
“একই সঙ্গে, যেসব ব্যাংকের সম্পদ পিএএমসি-এর অধিগ্রহণ করা হচ্ছে, সেসব ব্যাংককে অন্যভাবে শাস্তি দিতে হবে।”
তার উত্তরাধিকারী বর্তমান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের মতো তিনিও মনে করেন, দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ার কারণ হলো দুই-অঙ্কের সুদের হার।
“সুদের হার মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় আমাদের মুদ্রাস্ফীতি বেশি।”
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে গড় মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৫৯ শতাংশ এবং এর একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রয়েছে।
কিন্তু, স্বাভাবিকভাবে সুদের হার কমিয়ে আনার জন্য আমানত ও ঋণের মধ্যকার সুদের হারের ব্যবধান কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
“বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এখন এটি ৪ শতাংশেরও কম। যা এক ধরনের উন্নতি, তাই আমাদের এটিকে এগিয়ে নেওয়া উচিৎ” উল্লেখ করেন মুহিত।
অর্থনীতির জন্য এখন উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো রপ্তানি কমে যাওয়া, বিশেষ করে পোশাক খাতের।
গার্মেন্টস রপ্তানিকারকরা দীর্ঘদিন ধরে নগদ প্রণোদনার সুবিধা ভোগ করে আসছেন, এখন রপ্তানি উৎসাহিত করতে আরও সুবিধা দাবি করছেন তারা।
এই সময়ে গার্মেন্টস রপ্তানিকারকদের নগদ প্রণোদনা দেওয়া কি বুদ্ধিমানের কাজ হচ্ছে, যা কৃত্রিমভাবে তাদের প্রতিযোগিতামূলক এবং আত্মতুষ্ট করেছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে মুহিত বলেছেন, “এটি খুব ভালো একটি প্রশ্ন এবং এর উত্তর আমার কাছে নেই। নগদ প্রণোদনা যে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না তা এখন স্পষ্ট।”
পরবর্তীতে, পোশাক রপ্তানিকারকদের প্রতি ডলারের জন্য পাঁচ টাকা অতিরিক্ত অর্থ চাইবার ব্যাপারে কটাক্ষ করেন তিনি।
“নগদ বোনাস সবকিছু ঠিক করে দেবে… এমনটি ভাবা ঠিক নয়। তাদের (পোশাক রপ্তানিকারীদের) সমাধানের উপায়টি ভালো নয়। তারা আরও বেশি নগদ বোনাস চাইছে। যা সহজ নয়।”
পোশাক রপ্তানিকারীদের গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে।
“আমি সরকারকে এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেব।”
এই ব্যাপারটি দেখতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা এবং ভারতে পাঠানোয় কামালের প্রশংসা করেছেন এমএ মুহিত। বিশ্বব্যাপী পোশাক ব্যবসায় বাংলাদেশের এসব প্রতিযোগী দেশগুলোর সরকার এই জাতীয় নগদ সুবিধা প্রদান করছে কিনা দেখতেই তাদের পাঠানো হয়েছে।
তবে, রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনা এবং এর ব্যাপ্তি বাড়াতে আরও মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
“রপ্তানি উন্নয়নে অবস্থা সুবিধার নয়। আমরা সবসময় রপ্তানিতে ভালো করছিলাম। আমরা ৯-১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির হার বজায় রেখেছিলাম… এটিই অনেক। এটি সত্য সবসময় তা ধরে রাখা যায় না। কিন্তু, হঠাৎ পড়ে যাওয়া কিছুটা হলেও উদ্বেগের বিষয়।”
অর্থনীতির জন্য আরেকটি উদ্বেগের কারণ হলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়া। যা সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে ব্যাংকের কাছে পাঠিয়েছে।
এনবিআরের রাজস্ব সংগ্রহ কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি রেগে ওঠেন। কর প্রশাসন বছরের পর বছর ধরে স্ফীত পরিসংখ্যান সরবরাহ করে আসছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
এখন চর্চা বন্ধ হয়ে গেছে। আর এ কারণেই রাজস্বে তুলনামূলকভাবে প্রবৃদ্ধি কম মনে হয় বলে জানান তিনি।
“এজন্য রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা দায়ী। তারা মিথ্যাবাদী। তাদের শাস্তি হওয়া উচিত, এমনকি যারা অবসর নিয়েছেন তাদেরও। তিন বছর ধরে তারা ভুল প্রতিবেদন সরবরাহ করে আসছে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলেছে। যখন এটি হ্রাস পেয়েছিল তখন তারা বৃদ্ধি দেখিয়েছে। তবে সত্যি হলো, আমাদের রাজস্ব আদায় আসলেই কমে গেছে।”
কিন্তু, এখন রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে হবে বলে মনে করে তিনি। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শহরে বাড়ি বাড়ি পাঠিয়ে সম্পদ জরিপের পরামর্শ দেন সাবেক এই অর্থমন্ত্রী।
শিক্ষার্থীদের পরিদর্শন শেষে কোন পরিবারকে কর প্রদান করা উচিত তার একটি তালিকা তৈরি করতে হবে এবং একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কর প্রদানের পরামর্শ দিতে হবে। সরকারের উচিত এটি নিয়ে কাজ করা।
“একবার তাদের নোটিশ দিলে তারা করের আওতায় চলে আসবে। তারপরে তারা এগিয়ে আসবে এবং করের স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে তর্ক করবে। তবে একবার ঠিক হয়ে গেলে স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়টিও থাকবে না। তখন তাদের সঙ্গে আলোচনা করে করের হার নির্ধারণ করতে হবে।”
নতুন মূল্য-সংযোজন কর আইনে রাজস্ব সংগ্রহ নির্দিষ্ট পরিমাণে বাড়ানোর কথা ছিল। মুহিত এর বড় অংশের তদারকি করেছিলেন। তবে, তা এখনও সফল হয়নি।
“আমরা অনেক আশা নিয়ে এই আইনটি তৈরি করেছিলাম। আমরা ভেবেছিলাম সব সময়ের জন্য এটি একটি সমাধান হবে। যদিও তা হয়নি।”
কারণ, ভ্যাট গণনা বেশ জটিল।
“ভ্যাটের সম্পূর্ণ তত্ত্বটি হলো আপনি যে মূল্য যুক্ত করেন, তার ওপর কর প্রদান করতে হয়। সুতরাং, ৪-৫ জন একই পণ্যের জন্য ট্যাক্স দেয়। তাদের সবারই কিছু কিছু অর্থ দেওয়ার কথা ছিল। এই কাজের জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় হিসাবরক্ষণ এবং শৃঙ্খলা নেই। এখানেই আমাদের সমস্যা। আমাদের এখনও মূল্য সংযোজন তদারকি করার সিস্টেম নেই। সেখানে যেতে একটু সময় লাগবে।”
অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন এমএ মুহিতের সময় ঘটে যাওয়া বড় ঘটনা হলো, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক (এনওয়াই ফেড) থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টের প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার চুরি হয়ে যাওয়া।
এই ঘটনার চার বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও সমাধান হয়নি।
এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমাদের ভুল হয়েছে, আমাদের আগেই ফেডের বিরুদ্ধে মামলা করা উচিত ছিল। কারণ, ফেড স্পষ্টভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তারা ভুল করেছে।”
হ্যাকাররা যে পরিমাণ অর্থ নিয়েছিল, তার মধ্যে ২০ মিলিয়ন ডলার শ্রীলঙ্কার একটি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছিল।
এ বিষয়ে সরকারকে এখন আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
“আমাদের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো রিজাল ব্যাংককে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে দেওয়া। পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থা পরিচালিত হয় বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে এবং রিজাল ব্যাংক হলো জালিয়াত। আমার মতে, বিশ্বে রিজাল ব্যাংকের অস্তিত্ব থাকা উচিত নয়। এজন্য আমাদের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।”
অর্থমন্ত্রী হিসেবে তার সবচেয়ে গর্বিত অর্জনের কথা জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বলেন, “অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি অর্জন।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের একজন অর্থমন্ত্রীর একটিই কাজ, দারিদ্র্য কমানো। আপনি যদি দারিদ্র্য কমাতে পারেন তাহলে, আপনি সফল।”

Friday, January 10, 2020

প্রবৃদ্ধি অর্জনে ভারত-পাকিস্তান থেকে এগিয়ে বাংলাদেশ : বিশ্বব্যাংক

প্রবৃদ্ধি অর্জনে ভারত-পাকিস্তান থেকে এগিয়ে বাংলাদেশ : বিশ্বব্যাংক
ফাইল ছবি
রফতানির গতি কমে আসায় চলতি (২০১৯-২০) অর্থবছর শেষে নাগাদ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে পূর্ভাবাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বৃহস্পতিবার বিশ্ব অর্থনীতির পূভাবাস প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
এতে বাংলাদেশ বিষয়ে বলা হয়েছে, আগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৮ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এ অঞ্চলে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। মূলত রফতানি আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবৃদ্ধিও অনেক বেশি হয়েছিল। কিন্তু চলতি অর্থবছরের শুরুতে রফতানি আগের চেয়ে কমেছে।
ইত্তেফাক

Thursday, January 2, 2020

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে শাহ্‌জালাল ইসলামী ব্যাংক

সমকাল
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে শাহ্‌জালাল ইসলামী ব্যাংক আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কার্যক্রমের আওতায় সবার কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করেছে শাহ্‌জালাল ইসলামী ব্যাংক।

ব্যাংকটি প্রথম ধাপে পাঁচ বিভাগে ১৫ এজেন্ট আউটলেটের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করেছে। আউটলেটগুলোর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সাতটি, রাজশাহীতে পাঁচটি, খুলনায় একটি, বরিশালে একটি এবং চট্টগ্রামে একটি রয়েছে।

এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট থেকে গ্রাহকরা নতুন হিসাব খোলা, টাকা উত্তোলন, টাকা জমা, রেমিটেন্স গ্রহণ, আমানত গ্রহণ, বিনিয়োগ সুবিধা প্রদান এবং বিভিন্ন ধরণের ইউটিলিটি বিল প্রদানসহ সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যাংকের করপোরেট প্রধান কার্যালয়ে ব্যাংকের চেয়ারম্যান আক্কাচ উদ্দিন মোলল্গা প্রধান অতিথি হিসেবে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার শাকিব আহমেদ, পরিচালক সানাউলল্গাহ সাহিদ, প্রকৌশলী মো. তৌহিদুর রহমান, মোহাম্মদ ইউনুছ ও ফকির আখতারুজ্জামান, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ ও এস. এম. মঈনুদ্দীন চৌধুরী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহ্‌জাহান সিরাজ, এম. আখতার হোসেন, মিঞা কামরুল হাসান চৌধুরী ও ইমতিয়াজ ইউ. আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

ব্যাংকের চেয়ারম্যান বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের ব্যাংক গ্রামীণ অর্থনীতিতে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবে। সঞ্চয় ও বিনিয়োগে সহায়তার মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকার মানুষের আর্থিক সমৃদ্ধি অর্জনে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে বলে তিনি

গ্লোবাল ফিন্যান্স মিনিস্টার অব দ্যা ইয়ারে ভূষিত অর্থমন্ত্রী


গ্লোবাল ফিন্যান্স মিনিস্টার অব দ্যা ইয়ারে ভূষিত অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ফাইল ছবি
লন্ডন ভিত্তিক ফিন্যন্সিয়াল টাইম গ্রুপ এর মাসিক ম্যাগাজিন দ্য ব্যাংকারপত্রিকা ২০২০ সালের জন্য ফিন্যান্স মিনিস্টার অব দ্য ইয়ার ফর এশিয়া-প্যাসিফিক অ্যান্ড গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড-২০২০ এ ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সারাবিশ্বের অর্থমন্ত্রীদের আর্থিক খাতে গতিশীলতা আনয়নসহ দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে গৃহিত পদক্ষেপ বিবেচনা করে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
এশিয়া-প্যাসিফিক, আমেরিকা, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ, এই পাঁচটি অঞ্চল হতে পাঁচজন অর্থমন্ত্রীকে এবং তাদের মধ্যে থেকে একজনকে বিশ্বের মধ্যে শ্রেষ্ঠ অর্থমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশের কোন অর্থমন্ত্রী প্রথমবারের মতো এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। পত্রিকাটি ১৯২৬ সাল হতে প্রকাশিত হচ্ছে। পুরস্কারটি ২০০৪ সাল থেকে দেওয়া হচ্ছে। গতবছর এ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী, তার আগের বছর ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি এবং ২০১৭ সালে আর্জেন্টিনার অর্থমন্ত্রী এ পুরস্কার লাভ করেন।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বিরল এ পুরস্কারটি দেশের সর্বস্তরের সকল জনগণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন। সেইসাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত পথ অনুসরণ করেই এটি অর্জিত হয়েছে।
উল্লেখ্য ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর মুস্তফা কামালকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তিনি ২০১৪-২০১৮ সময়কালে সফলভাবে পরিকল্পনামন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। অর্থমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই তিনি চলমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিকে সচলরাখা ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনয়নে বেশ কিছু কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পর পর তিনটি অর্থবছর ৭ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি অর্জিত হওয়ার পর ২০১৮-১৯ অর্থবছর ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশ্ব প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব বিস্তারকারি শীর্ষ ২০টি দেশের অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশ। অর্থমন্ত্রীর নীতি নির্ধারণী অনেকগুলো উদ্যোগের মধ্যে ব্যাংক, আর্থিক খাত ও রাজস্ব খাতের সংস্কার উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে ব্যাংক সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিডে নামিয়ে আনতে উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি। রাষ্ট্রায়াত্ত্ব ব্যাংকগুলোর যৌক্তিক কারণে খেলাপি হওয়া ঋণ পুনঃতফসিলকরণের উদ্যোগ গ্রহণ, ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিদের দেউলিয়া ঘোষণাসহ এসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির মাধ্যমে ঋণ আদায়ের উদ্যোগ গ্রহণ, পুঁজিবাজারে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রণোদনা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ, বন্ড মার্কেট চালুর উদ্যোগ গ্রহণ ছাড়াও প্রথমবারের মতো বাংলা টাকা বন্ড লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তকরণ উল্লেখযোগ্য। সেইসাতে ভ্যাট আইন চালু করা, কাস্টমস আইন সংস্কার করা এবং উপজেলা পযন্ত আয়কর আদায়ের জাল বিস্তারের উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি। সম্প্রতি রেমিট্যান্স বাড়াতে ২ শতাংশ প্রণোদনা ঘোষণা করা হয় যার প্রভাবে রেকর্ড রেমিট্যান্স আসছে দেশে।
ইত্তেফাক/ইউবি

ভুয়া ক্রেডিট রেটিং: এজেন্সিগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে-যুগান্তর


ক্রেডিট রেটিং
ক্রেডিট রেটিং। প্রতীকী ছবি
ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা যাচাই করে যেসব ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি, তারা কতটা সঠিকভাবে এ কাজটি করছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ আছে, ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বিবেচনায় না নিয়েই ঘুষের বিনিময়ে দেয়া হচ্ছে উচ্চমানের রেটিং।
এর ফলে অনক দুর্বল প্রতিষ্ঠানও ঋণ পেয়ে যাচ্ছে। তারা সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে একসময় হয়ে পড়ছে ঋণখেলাপি। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
দেশে যখন খেলাপি ঋণের পরিমাণ উত্তরোত্তর বাড়ছে এবং এর ফলে ব্যাংকিং খাতে বিরাজ করছে দুরবস্থা, তখন ক্রেডিট রেটিংয়ের ক্ষেত্রে সঠিকতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করি আমরা। অথচ দুর্ভাগ্যের বিষয়, সেটি হচ্ছে না। ফলে বাড়ছে খেলাপি ঋণ। সংশ্লিষ্ট ক্রেডিং রেটিং এজেন্সিগুলো এর দায় এড়াতে পারে না।
দেশের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যা বিরাজ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল উচ্চ খেলাপি ঋণ। মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণ ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বস্তুত খেলাপি ঋণ শুধু ব্যাংকিং খাতে নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেই ঝুঁকি তৈরি করছে।
মাত্রাতিরিক্ত খেলাপির প্রভাব পড়ছে ঋণ ব্যবস্থাপনায়, বিশেষত ঋণের সুদহারে। এ কারণে এগোতে পারছেন না ভালো উদ্যোক্তারা। ফলে বাড়ছে না বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান। এ অবস্থায় ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের মৌলভিত্তি ভালোভাবে যাচাই না করে ঋণ প্রদান কোনোভাবেই সমীচীন নয়। কারণ অনেকেই ভুয়া সম্পদ দেখিয়ে ঋণ পাওয়ার চেষ্টা করে।
দেখা যায়, শতকোটি টাকার উপরে সম্পদ দেখালেও বাস্তবে তার দাম এক কোটি টাকাও নয়। ঋণ আদায়ের জন্য ওইসব কোম্পানির সম্পদ নিলামে ডাকা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। ঋণগ্রহীতা কোম্পানির সম্পদের পরিমাণ সঠিকভাবে যাচাই করে ঋণ দেয়া হলে এমনটি ঘটার আর আশঙ্কা থাকে না।
বস্তুত এজন্যই গড়ে উঠেছে ক্রেডিট রেটিং এজেন্সিগুলো। তবে পরিতাপের বিষয়, এ নিয়েও কেউ কেউ জমজমাট অবৈধ ব্যবসা করছে। জানা গেছে, দেশে বর্তমানে আটটি ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশে এতগুলো রেটিং এজেন্সির কোনো দরকার নেই।
বস্তুত ঋণগ্রহীতাদের যাবতীয় তথ্য ব্যাংকগুলোর কাছেই থাকে। সেক্ষেত্রে এ ক্রেডিট রেটিং সনদ বাধ্যতামূলক করাটা উদ্যোক্তাদের ওপর এক ধরনের খড়গস্বরূপ। আর ক্রেডিং রেটিং এজেন্সিগুলো যদি ঘুষের মাধ্যমে সনদ দিয়ে থাকে, তাহলে তাদের ওপর ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা যাচাইয়ের দায়িত্ব দেয়া তো অর্থহীন।
আমরা মনে করি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত বিষয়টি ভালোভাবে খতিয়ে দেখা। কোনো রেটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। যেসব এজেন্সি ভুয়া রেটিং দেয়, তাদের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। এজেন্সিগুলোকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে তাদের মান ও যোগ্যতা। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির স্বার্থেই এটি প্রয়োজন।

https://www.youtube.com/channel/UCtdxlW_6Wv_ncTSp2iEOEwA?view_as=subscriber