Wednesday, April 8, 2020

লকডাউন করা এলাকায় সোনালী ব্যাংকের শাখা বন্ধের সিদ্ধান্ত

লকডাউন করা এলাকায় সোনালী ব্যাংকের শাখা বন্ধের সিদ্ধান্ত


করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে যেসব এলাকা লকডাউন করা হয়েছে সেখানে ব্যাংকের শাখা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাংক সোনালী ব্যাংক। আজ বুধবার ব্যাংকের ব্রাঞ্চেস কন্ট্রোল বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।
আদেশে বলা হয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশসহ বাংলাদেশ কোনো ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট রোগের বিস্তার ও সংক্রমণের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার লক্ষ্যে দেশের ব্যাংকিং সেবা চালু রাখা অপরিহার্য। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সরকারের অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের মতো সোনালী ব্যাংক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
দেশে করোনাভাইরাসের সামাজিক বিস্তার প্রতিরোধে ইতিমধ্যে দেশের বেশ কিছু অঞ্চল এবং শহরকে সরকারের স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। যেসব অঞ্চলে সরকারের স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে সেসব অঞ্চলের শাখাসমূহ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার জন্য পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক আরো কোনো অঞ্চল লকডাউন ঘোষণা করলে স্থানীয় জিএম অফিস তার আওতাধীন শাখাসমূহ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নেবে।

Tuesday, April 7, 2020

বুধবার থেকে ব্যাংকের বৈদেশিক শাখার লেনদেন ৪ ঘণ্টা



বুধবার থেকে ব্যাংকের বৈদেশিক শাখার লেনদেন ৪ ঘণ্টা


করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে তৃতীয় দফায় বর্ধিত সাধারণ ছুটির ১২ ও ১৩ এপ্রিলও সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ব্যাংকিং লেনদেন হবে। আর ব্যাংক খোলা থাকবে বিকাল ৩টা পর্যন্ত। তবে জরুরি বৈদেশিক লেনদেন করার সুবিধার্থে ব্যাংকের নির্দিষ্ট অথরাইজড ডিলার (এডি) শাখার লেনদেনের সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বুধবার থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলবে বৈদেশিক শাখায় লেনদেন। ‌আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপরভিশন থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার ইতিপূর্বে ঘোষিত সাধারণ ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধি করার প্রেক্ষিতে আগামী ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দৈনিক ব্যাংকিং লেনদেন সময়সূচি সকাল ১০টায় থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পুনঃনির্ধারণ করা হলো। লেনদেন পরবর্তী অনুষাঙ্গিক কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য সংশ্লিষ্ট শাখা প্রধান বিকাল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। আর ৮ এপ্রিল থেকে গুরুত্তপূর্ণ ও জরুরি বৈদেশিক লেনদেন সম্পাদনের জন্য ব্যাংক তার স্বীয় বিবেচনায় নির্বাচিত এডি শাখার লেনদেনের সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে দুপুর ২টা পর্যন্ত করতে পরবে। তবে সাধারণ ব্যাংকিং লেনদেন এ আওতার বাইরে থাকবে। কালের কন্ঠ

ঝুঁকিতে ব্যাংক কর্মকর্তারা, লেনদেন বন্ধ রাখার দাবি, কম সময়ের লেনদেনে ব্যাংকে উপচে পড়া ভিড়

বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা তোলার চাপ অনেক বেড়েছে

জিয়াদুল ইসলাম   
৭ এপ্রিল, ২০২০

কম সময়ের লেনদেনে ব্যাংকে উপচে পড়া ভিড়


দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়লেও টাকা তুলতে ব্যাংকে ভিড় করছে সাধারণ মানুষ। মাসের শুরুর দিক হওয়ায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাংকের শাখায় উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। এ ছাড়া লকডাউনের আশঙ্কা ও আতঙ্ক থেকেও ব্যাংক থেকে টাকা তোলার চাপ বেড়েছে ব্যাপকহারে। ফলে সাধারণ ছুটির মধ্যেও সীমিত আকারের ব্যাংকিং লেনদেনে গ্রাহকদের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এতে সামাজিক দূরত্বও বজায় থাকছে না। ফলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যাংকাররা। তাঁরা বলেন, কম সময়ের লেনদেনে গ্রাহকদের এত চাপ যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা যাচ্ছে না। এতে ব্যাংকারদের পাশাপাশি যারা ব্যাংকে আসছে, সবাই ঝুঁকিতে রয়েছে। এ জন্য সবার নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যাংক বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
দেশে প্রতিদিনই করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। এ ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার এরই মধ্যে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে দুই দফায় তা বাড়িয়েছে। গত ২৬ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ২০ দিনের সাধারণ ছুটির আওতায় চলছে সারা দেশ। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য মাঠে নেমেছে বেসামরিক প্রশাসনের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনাবাহিনী। তবে জরুরি সেবার আওতায় সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবা চালু রাখা হয়েছে। সাধারণ ছুটির মধ্যেও ব্যাংকে গ্রাহকের ব্যাপক ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত রবিবার থেকে ব্যাংকগুলোতে লেনদেন হচ্ছে তিন ঘণ্টা। এই সময়ে বেশির ভাগ গ্রাহকই টাকা তুলতে আসছেন। বিশেষ করে মাসের প্রথম দিক হওয়ায় বেতন, সঞ্চয়পত্রের নগদায়ন ও মুনাফা উত্তোলন এবং সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা তোলার চাপ অনেক বেড়ে গেছে। গতকাল সোমবারও ব্যাংকে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে সরকারি ব্যাংকগুলোর শাখাগুলোতে গ্রাহকদের চাপ এতটাই বেশি ছিল যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা তো দূরের কথা, উল্টো গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়াতে দেখা যায় গ্রাহকদের। এতে করোনা ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সোনালী ব্যাংক নবাবগঞ্জের আগলা শাখার কর্মকর্তা রকিবুল ইসলাম রঞ্জু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাধারণ ছুটির মধ্যেও আমাদের শাখাতে গ্রাহকদের ব্যাপক চাপ। বেশির ভাগই নগদ টাকা তুলছেন। রেমিট্যান্স তুলতে আসেন অনেকেই। কেউ কেউ এসেছেন ডিপিএসের টাকা জমা দিতে। গ্রাহকের এতটাই চাপ ছিল যে লাইনে এক ইঞ্চি ফাঁকাও ছিল না। আমরা তাঁদের সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেয়েছি।’ তিনি আরো বলেন, ঈদের সময়ে ব্যাংক বন্ধ রাখা হয়। সেভাবে এখনো ব্যাংক বন্ধ রাখা যায়। ব্যাংক কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এটা করা উচিত।
বেসরকারি আল-আরাফাহ্ ব্যাংকের চকবাজার শাখার নির্বাহী কর্মকর্তা দিদারুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের শাখায় তুলনামূলক গ্রাহকের চাপ একটু কম ছিল। তবে এর মানে এই নয় যে আমরা ঝুঁকিতে নেই। প্রতিদিন যদি ২০ জন গ্রাহকও আসেন, তাহলে তাঁরা তো ২০টি পরিবার থেকে আসছেন। তাঁরা আমাদের চেক বই দিচ্ছেন, আমরা তাঁদের টাকা দিচ্ছি। আর করোনা তো এভাবেই ছড়ায়। ফলে আমরা নিজেদের ঝুঁকিগ্রস্ত মনে করছি। ব্যাংক বন্ধ রাখলে অন্তত নিরাপদে বাসায় থাকতে পারতাম।’
ব্যাংক খোলা রাখা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাংক কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন। গতকাল সোমবার নিজের ফেসবুক পেজে সারওয়ার মোর্শেদ নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তা লেখেন, ‘ব্যাংকারদের যথাযথ সুরক্ষার ব্যবস্থা না করে বাংলাদেশ ব্যাংক কিভাবে ব্যাংক খোলা রাখতে বলে? তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ সুবল ঘোষ নামে আরেক ব্যাংক কর্মকর্তা  লিখেছেন, ‘নিজের জন্য ভাবছি না, ভাবছি পরিবার বন্ধু-বান্ধব, ভাবছি স্যার আপনার (গ্রাহক) জন্য।’
গ্রাহকদের ব্যাংকে উপস্থিতির কিছু স্থিরচিত্র আপলোড করে জনতা ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম নামে একজন শাখা ব্যবস্থাপক লিখেছেন, সীমিত ব্যাংকিংয়ের নমুনা। কী লিখব বুঝতে পারছি না। এভাবে কি করোনা প্রতিরোধ সম্ভব? জাতির বিবেকের কাছে প্রশ্ন। রাসেল চৌধুরী নামে আরেকজন লিখেছেন, চলুক সার্কাস—মরলে একা মরব কেন, সবাই একসঙ্গে মরব। সঙ্গে ব্যাংকার এবং সবার পরিবার ও আশপাশের লোকজনের ফ্রি করোনা ছড়িয়ে দেওয়া তো আছেই। কালের কন্ঠ

Sunday, April 5, 2020

মেয়াদ পূর্ণ সঞ্চয়পত্রের টাকা পরিশোধের নির্দেশ

মেয়াদ পূর্ণ জাতীয় সঞ্চয় সার্টিফিকেট এবং কুপনের অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
করোনাভাইরাসের কারণে সীমিত আকারে পরিচালিত হচ্ছে ব্যাংক। খোলা রাখা হয়েছে ক্লিয়ারিং হাউস। তবে সঞ্চয়পত্রের টাকা লেনদেনের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা ছিল না এতদিন। তাই সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারীদের কথা চিন্ত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ নির্দেশনা দিয়েছে।
রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অব সাইট সুপারভিশন থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।
বাংলাদেশে কার্যরত সকল তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো সার্কুলারে বলা হয়, বিভিন্ন ব্যাংকিং লেনদেন কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের বিভিন্ন জাতীয় সঞ্চয় সার্টিফিকেটের মেয়াদ পূর্তিতে নগদায়ন এবং কুপনের অর্থ পরিশোধেও অন্তর্ভুক্ত হবে। এ বিষয়ে গ্রাহকসেবা প্রদান নিশ্চিত করার জন্য আপনাদের নির্দেশ দেয়া হলো।
উল্লেখ, করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময় তফসিলি ব্যাংকগুলোর সীমিত আকারে ব্যাংকের লেনদেন চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নগদ লেনদেন করতে পারবেন গ্রাহক। আর ব্যাংক খোলা থাকবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।
 জাগো নিউজ ২৪

Thursday, February 27, 2020

ঋণখেলাপির সম্পত্তি দখল নিতে পারবে সরকার




সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণের পাহাড় জমেছে। বর্তমানে ৯৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে আছে। এই টাকা আদায়ে সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কিন্তু কোনো পদক্ষেপেই এই বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণ আদায় করা যাচ্ছে না। যে কারণে খেলাপি ঋণ আদায়ে প্রথমবারের মতো আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। ‘বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন আইন, ২০২০’ নামে ইতোমধ্যে নতুন এই আইনের একটি খসড়া প্রণয়ন করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যর্থ হলে নতুন প্রণীত এই আইনের খসড়া অনুযায়ী ‘অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন’ গঠন করে খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যবস্থা নিতে পারবে। সরকারি বিশেষায়িত এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি খেলাপি আদায়ে সম্ভব সব ধরনের ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজন মনে করলে ঋণখেলাপির ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে দিতে পারবে। পারবে লিজে দিতেও। ঋণখেলাপির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দখল, পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তন এবং ঋণ পুনর্গঠনও করতে পারবে। খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর এই প্রথম কোনো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানকে এত ক্ষমতা দিয়ে নতুন আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, অন্য আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, ‘ননপারফরমিং’ ঋণ আদায় ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এই আইন প্রাধান্য পাবে। খবর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রের।
খেলাপি ঋণ কমিয়ে এনে আদায় বাড়ানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক মিলে ‘বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন আইন ২০২০’-এর খসড়া প্রণয়নের পর এখন সর্বসাধারণের মতামত নেওয়ার জন্য তা প্রকাশ করেছে।
এ ব্যাপারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, এ ধরনের আইন প্রয়োজন আছে। তবে সেখানে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা দেওয়া দরকার।
তিনি আরও বলেন, তবে সার্বিকভাবে খেলাপিদের শাস্তির আওতায় আনা দরকার। সরকার এর মাধ্যমে উদ্যোগ নিচ্ছে এটি ভালো। তবে এর আগে রাজনৈতিক কারণে ঋণ দেওয়া-নেওয়া বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি আইন পাসের আগে অন্যান্য দেশে এ ধরনের আইনে কী বলা আছে তা দেখা উচিত বলে পরামর্শ তার।


নতুন এ আইনে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে খসড়ায় বলা হয়েছে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ননপারফরমিং ঋণ আদায় ও ব্যবস্থাপনা, স্বেচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণ গ্রহীতা হওয়ার প্রবণতা কমানো, বিনিয়োগের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও উৎসাহ প্রদান এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে সহায়তা ও পরামর্শ প্রদানের জন্যই এ আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।
আইনটিতে পুঁজিবাজার স্থিতিশীল রাখতে করপোরেশনকে শেয়ার, বন্ড ও ডিবেঞ্চার বা মিউচ্যুয়াল ফান্ড কিনে বিনিয়োগ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তহবিল সংগ্রহে সেখান থেকে অর্থও তুলতে পারবে করপোরেশন।
জানা গেছে, খেলাপি ঋণ আদায়ে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করবে। প্রতিটি ব্যাংক পৃথক পৃথকভাবে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তি করবে। চুক্তি অনুযায়ী, ব্যাংক খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যর্থ হলে সেগুলো করপোরেশনের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করবে। তার পর করপোরেশন সে খেলাপি ঋণ আদায়ে সোচ্চার হবে। এ ক্ষেত্রে করপোরেশন ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক আদায়কৃত খেলাপি ঋণের অংশ নেবে।
খসড়া আইনের ধারা ২৩-এ করপোরেশনের ক্ষমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে, খেলাপি ঋণ আদায়ে ঋণগ্রহীতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গ্রহণসহ কর্তৃত্ব নিয়ে নিতে পারবে। ঋণগ্রহীতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির ব্যবসায়ের সম্পূর্ণ বা আংশিক বিক্রয় বা লিজ দিতে পারবে। বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানটি চাইলে ঋণগ্রহীতার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ কিংবা পুনর্গঠন করতে পারবে। কোনো প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি হলে করপোরেশনের এক বা একাধিক এজেন্ট প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হিসেবে কাজ করবেন। আর যদি কোনো ব্যক্তি ঋণখেলাপি হয় তা হলে এজেন্ট প্রশাসকের ক্ষমতা পাবে। ঋণগ্রহীতার বকেয়া নিষ্পত্তি করার ক্ষমতাও দেওয়া হচ্ছে করপোরেশনকে। এ ছাড়া জামানতের দখল, সুরক্ষা, এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে লিজ বা বিক্রয়ের ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা পাচ্ছে সরকারি এ প্রতিষ্ঠান। ঋণগ্রহীতার ঋণের সম্পূর্ণ বা যে কোনো অংশ শেয়ারে রূপান্তর করতে পারবে। করপোরেশন নিজ নামে মামলা দায়ের করতে পারবে। শুধু দেশের নয়, বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি ঋণখেলাপি হলে সে ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা এবং মামলা করতে পারবে করপোরেশন। যে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ করপোরেশন কিনবে সেগুলো আদায়ের প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা করতে এবং মামলায় পক্ষ হতে পারবে। আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ক্ষমতা বা অধিকার করপোরেশন পাবে।
সরকার চাইলে করপোরেশন খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিতে পারবে। তবে করপোরেশন প্রতিবছর একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে দেবে। খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য করপোরেশন কেন্দ্রীয় তথ্য ভাণ্ডার স্থাপন করবে। আর এর সঙ্গে ঋণের জামানত রেজিস্ট্রি প্ল্যাটফর্মের সমন্বয় করবে।
খসড়া আইনের ধারা ৭ এবং ৮-এর মধ্যে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশনের শেয়ার মূলধন এবং পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের ব্যাপারে বলা হয়েছে। ধারা ৭ মোতাবেক করপোরেশনের অনুমোদিত শেয়ার মূলধন হবে ৫ হাজার কোটি টাকা। প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যের ৫০০ কোটি সাধারণ শেয়ারে বিভক্ত হবে। সরকার সময় সময় অনুমোদিত শেয়ার মূলধন বৃদ্ধি করবে। করপোরেশনের পরিশোধিত শেয়ার মূলধনের পরিমাণ হবে ৩ হাজার কোটি টাকা। সরকার চাইলে তা আরও বাড়াতে পারবে।
৮ ধারায় বলা হয়েছে, তহবিল সংগ্রহের জন্য করপোরেশন প্রয়োজনে পুঁজিবাজারে বন্ড ইস্যু করতে পারবে। পুঁজিবাজারের স্বার্থে তথা তহবিলের জন্য করপোরেশন বন্ড ও ডিবেঞ্চার, শেয়ার বা মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে পারবে। একই সঙ্গে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে লাভজনক যে কোনো খাতেও এটি বিনিয়োগ করতে পারবে। করপোরেশন তহবিল বা ফান্ড গঠন বা বাড়াতে এক বা একাধিক, দেশি বা বিদেশি বিনিয়োগকারী কিংবা ফান্ড/ফান্ড ম্যানেজারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে পারবে। করপোরেশন চাইলে এক বা একাধিক সাবসিডিয়ারি কোম্পানিও গঠন করতে পারবে।
করপোরেশনের চেয়ারম্যান হবেন পদাধিকার বলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব। এর পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ হবে তিন বছর। এক-তৃতীয়াংশ সদস্য উপস্থিত হলেই এর কোরাম পূর্ণ হবে বলে আইনের খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আমাদের সময়

সুনীল অর্থনীতিই আগামীর নির্ভরতা

সাগর
প্রাণিবিজ্ঞানী মারাহ্ জে. হার্ডট ২০১৭ সালে ‘মনোরহ্যাফিশ শুনি’ প্রজাতির যে সামুদ্রিক স্পঞ্জটির কথা উল্লেখ করেছিলেন, সেটির বয়স ১১ হাজার বছর। অর্থাৎ ১১ হাজার বছর ধরে প্রাণীটি সমুদ্রের তলদেশে বেঁচে আছে। তাহলে আমরা যে এতদিন জানতাম পৃথিবীর দীর্ঘজীবী প্রাণী হচ্ছে কচ্ছপ, সে ধারণাটি ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়েছে।
এর মাধ্যমে আমরা জানলাম, এ ধরনের বিস্ময়কর তথ্য আমরা একমাত্র সমুদ্র থেকেই পেতে পারি। এই যে দীর্ঘজীবী সামুদ্রিক প্রাণী সেগুলোর জিন মানবদেহে প্রবিষ্ট করানো সম্ভব হলে কি মানুষও এতটা দীর্ঘজীবী হবে? এটি বিজ্ঞানীরা ভেবে দেখতে পারেন।
তবে আমরা যে ধারণাটি পেলাম সেটি হচ্ছে, সমুদ্র যেমন অপার রহস্যের আধার, তেমনি শক্তিরও বিশাল উৎস। এ শক্তিশালী সমুদ্র এতদিন আমাদের ছিল না। ছিল না বলেই সমুদ্র সম্পর্কে আমাদের ধারণাও ছিল খুবই সীমিত। আমরা বলি, সমুদ্র স্নানে যাচ্ছি এবং অতঃপর হাঁটুপানিতে জলকেলি করে মধুচন্দ্রিমা সেরে ফেরত আসি।
২০১২ সালে আমাদের সামনে সমুদ্রের এক বিশাল দিগন্ত উন্মোচিত হল। তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের নেতৃত্বে আমরা মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে বিবাদ মিটিয়ে সাকুল্যে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা লাভ করি।
তাতে আমাদের মোট সমুদ্রসীমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ১১০ বর্গকিলোমিটার, যা আগে ছিল ২ হাজার ২৯৭ বর্গকিলোমিটার। হিসাব করলে দেখা যায়, এটি বাংলাদেশের প্রায় সমান, অর্থাৎ মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ২৬ হাজার ৪৬০ বর্গকিলোমিটার ছোট।
তার মানে আমাদের তৃতীয় প্রতিবেশীটি বেশ বড়সড় শরীর নিয়ে আমাদের পাশে অবস্থান করছে। এখন তাকে আর অবহেলা করা যাবে না, এখন অবলোকন করার কার্যক্রম আর হাঁটুপানিতে স্নান করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না।
গভীর এ সমুদ্রকে এখন আমাদের গভীরভাবেই পর্যবেক্ষণ করতে হবে। জানার চেষ্টা করতে হবে কী অমূল্য সম্পদ লুকিয়ে আছে সমুদ্রজুড়ে এবং এর তলদেশে। অবশ্য অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনেই সমুদ্রের দিকে আমাদের ধাবিত হতে হবে।
চাষযোগ্য জমির পরিমাণ হ্রাস এবং অন্যান্য কারণে যেভাবে আমাদের খাদ্যভাণ্ডার সংকুচিত হয়ে আসছে তাতে বিকল্প খাদ্যের অনুসন্ধান করা ছাড়া উপায় নেই। এ অনুসন্ধানে সমুদ্রই অকৃপণ হস্তে তার ভাণ্ডারের দ্বার উন্মুক্ত করে দিতে পারে।
সংস্কারবশত আমরা যে এতদিন সি ফুড ব্যবহার করতাম না, সেই মানসিক অবস্থান থেকে এখন সরে আসতে হবে। ফিল্ড ওয়ার্কের একটি অভিজ্ঞতা না বললেই নয়। সি উইড (সামুদ্রিক শৈবাল) নামের ঔষধি গুণসম্পন্ন যে সমুদ্র সম্পদটি পরিচিত, সেটি কাঁচাই খাওয়ার যোগ্য। অতঃপর রন্ধন করে খেয়ে দেখেছি এর স্বাদের সীমাই নেই। তেমনি বিশ্বব্যাপী যে সি ফুড ব্যাপকভাবে প্রচলিত, সেগুলোর প্রতি আমাদের নির্ভরশীলতা বাড়াতে হবে।
আমরা যদি একটি হাইপোথিসিসের মাধ্যমে অগ্রসর হই যে, সমুদ্র প্রাণপ্রাচুর্য আর ঐশ্বর্যে ভরপুর তাহলে অনেক পেছনে ফিরে তাকাতে হবে, তাকাতে হবে পুরাণের যুগে। এ নিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম যেমনটি বলেছিলেন, ‘মন্থন-মন্দার দিয়া দস্যু সুরাসুর/মথিয়া লুণ্ঠিয়া গেছে তব রত্নপুর।’ (সিন্ধু, তৃতীয় তরঙ্গ)।
তবে পুরাণের যুগ যেহেতু বাসি হয়েছে, আমাদের বাস্তবভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে জেনে নিতে হবে আমরা আসলে কতটা ঐশ্বর্যশালী। এ অবস্থায় সমুদ্র জয়ের প্রেক্ষাপটে বৈজ্ঞানিক (সিসমিক ও ভূতাত্ত্বিক) গবেষণাই হতে হবে আমাদের প্রথম পদক্ষেপ।
যে যত কথাই বলুক, এ জরিপ ও গবেষণা কর্মটি সম্পন্ন হয়নি বলেই সমুদ্র জয়ের ৭ বছর অতিক্রান্ত হলেও আমরা এখনও কোনো সমুদ্র সম্পদ উত্তোলন করতে সক্ষম হইনি।
গভীর সমুদ্রের মৎস্যসম্পদ নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, আমরা তো জানিই যে, ভারত মহাসাগরের অংশ বিধায় আমাদের বিজিত সমুদ্রসীমায় টুনা মাছের প্রাচুর্য আছে। তা আছে বটে; কিন্তু টুনা ধরা মোটেও সহজ নয়।
২০১৭ সালে নিউইয়র্কে সমুদ্র সম্মেলনে যোগদানের সময় এক মালদ্বীপ প্রতিনিধির মুখে পিলে চমকানো কথা শুনেছিলাম। ছোট্ট একটি দ্বীপ হলেও মালদ্বীপ প্রতিদিন ১০০ টন টুনা মাছ ধরছে।
কারণ তাদের প্রত্যেক পরিবারেই রয়েছে একটি করে মাছ ধরার নৌকা, সর্বোপরি তাদের রয়েছে এ পদ্ধতিতে মাছ ধরার হাজার বছরের ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশও সমুদ্রজয়ের পর এ বিষয়ে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে শুরু হবে লং লাইনার ও পার্স সেইনিং পদ্ধতিতে মাছ ধরার কার্যক্রম।
তেমনি জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পেট্রোবাংলা শুরু করেছে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ। রাখাইন বেসিনের তেল-গ্যাস অনুসন্ধান করে মিয়ানমার যদি তার সুনীল অর্থনীতির ফল ভোগ করতে পারে, তবে এর প্রতিবেশী বেঙ্গল বেসিন থেকে বাংলাদেশও সম্পদ আহরণ করে তার অর্থনীতিতে আয় যোগ করতে সক্ষম হবে।
ওদিকে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর অনুসন্ধান করছে খনিজসম্পদের। আমাদের সমুদ্রের তলদেশে জিরকন, রুটাইল, গারনেট, ইলমেনাইট, ম্যাগনেটাইট ইত্যাদি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এসব এখন সময়ের ব্যাপার, তবে লক্ষ রাখা উচিত সময় দ্রুত কমিয়ে আনার।
কারণ সুনীল অর্থনীতির উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ অতিরিক্ত কালক্ষেপণই করে ফেলেছে। ব্লু ইকোনমির আরও অনেক উদ্যোগ রয়েছে। সমুদ্রের বিশাল জলরাশিকে ব্যবহার করার জন্য বাংলাদেশ-ভারত-শ্রীলংকা-মালদ্বীপ- এ ৪টি দেশের সমন্বয়ে সিক্রুজ-কোস্টাল ট্যুরিজমের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।
এতে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন সমন্বিতভাবে কাজ করবে। আমরা জানি, ইতিমধ্যেই ঢাকা থেকে কলকাতা অভিমুখে যাত্রা সম্পন্ন করেছে সিক্রুজের প্রথম জাহাজটি।
‘সিন্ধু’ কবিতায় ছিল সমুদ্র মন্থনের কথা। আমরা যদি সম্পদ আহরণ করতে গিয়ে সমুদ্র মন্থন করে সব শেষ করে দিই তাহলে তো চলবে না। আশার কথা এ বিষয়ে অন্তত বাংলাদেশের সচেতনতার ঘাটতি দেখা দেয়নি।
২০১৭ সালের সমুদ্র সম্মেলনেই বাংলাদেশ এ বিষয়ে ৩টি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত অঙ্গীকার করেছিল : এক. ২০২৫ সালের মধ্যে সামুদ্রিক এলাকায় সব ধরনের দূষণ, বিশেষ করে মূল ভূভাগ থেকে দূষণ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে আনা, দুই. ২০২০ সালের মধ্যে ৫ শতাংশ সামুদ্রিক এলাকাকে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে সংরক্ষণ করা, তিন. ২০২০ সালের মধ্যে সামুদ্রিক এলাকা থেকে অতিরিক্ত মৎস্য আহরণ, অবৈধ, অধিকৃত, নিয়ন্ত্রণাধীন এবং ধ্বংসাত্মক মৎস্য আহরণ পদ্ধতি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।
উল্লেখ্য, নিঝুম দ্বীপ এলাকায় সমুদ্র সংরক্ষণের উদ্যোগের মাধ্যমে এ কার্যক্রম ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ১৪-এর অধীনে।
আশানুরূপ ফলোদয় না হলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকারি উদ্যোগ যথাযথ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিষয়াদির সুষ্ঠু সমন্বয়ের জন্য জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের অধীনে সরকার সৃষ্টি করেছে ব্লু ইকোনমি সেল।
উদ্যোগ ও বাস্তবায়নের মধ্যে কোনো গ্যাপ তৈরি না হলে গুন্টার পাউলির ভাষ্য অনুযায়ী, এ দেশও ১০ বছরে ১০০ উদ্ভাবন দ্বারা ১০০ মিলিয়ন কর্মসংস্থান সৃষ্টির স্বপ্ন দেখতে পারে। এতে প্রাইভেট সেক্টরের কার্যকর ভূমিকা থাকবে।
জাতীয় কবি কালজয়ী ‘সিন্ধু’ কবিতাটি লিখেছিলেন ৯৩ বছর (১৯২৬ সালের ৩১ জুলাই) আগে, চট্টগ্রাম বসে। এতে তিনি সাবমেরিনের প্রসঙ্গ টেনেছিলেন : হাঙর-কুমির-তিমি চলে ‘সাবমেরিন’। তাহলে কত বছর পর আমাদের নৌবাহিনী সাবমেরিনের মালিকানা অর্জন করল?
তবে এ ধরনের সময় অতিক্রান্তিকে উদাহরণ হিসেবে ধরে না নিলেও এবং জাতীয় ক্ষতির কারণ হিসেবে চিহ্নিত না করলেও এটি বলার অপেক্ষা রাখে না, সুনীল অর্থনীতির উদ্যোগ বাস্তবায়নে আমরা খানিকটা সময় নিয়েই ফেলেছি। এ ক্ষতি পোষানোর জন্য আমাদের একটি ইতিবাচক ‘গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড’ নীতি অবলম্বন করার কথা ভাবতে হবে।
ড. গোলাম শফিক : প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক

Friday, February 21, 2020

ঋণখেলাপিদের অর্থ কোথায় যায় হচ্ছে ব্যাংকিং কমিশন, অর্থনীতি সম্পৃক্ত দাপুটে কাউকে আনার চিন্তা, খেলাপি বন্ধে কঠোর সরকার

ঋণখেলাপিদের অর্থ কোথায় যায়
সংসদে প্রকাশিত শীর্ষ ঋণখেলাপিরা ব্যাংক থেকে নেওয়া অর্থ কোথায় রেখেছেন বা কোন কাজে ব্যয় করেছেন তা অনুসন্ধান করছে সরকার। এদের মধ্যে যারা বিদেশে অর্থ পাঠিয়ে দিয়েছেন তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যারা পাচার করা টাকায় বসবাস করছেন কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর তাদের বিষয়েও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ২২ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে ৮ হাজার ঋণখেলাপির তথ্যসংবলিত একটি তালিকা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। এর আগে গত বছরের জুনে সংসদে ৩০০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ করা হয়। এদিকে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে একটি শক্তিশালী ব্যাংকিং কমিশন গঠন করা হচ্ছে। দাপুটে কোনো অর্থনীতিবিদকে এ কমিশনের প্রধান করা হতে পারে। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ আদায়ে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। খেলাপি ঋণ আদায়ে সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হবে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশনকে। অর্থ বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংক-সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। অর্থ বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, সঠিকভাবে অনুসন্ধান করা হলে শীর্ষ ঋণখেলাপির অধিকাংশই স্বেচ্ছা খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবেন। এর বেশির ভাগই ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ নিয়ে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও পরিশোধ করেননি। অনেকে ঋণের টাকার প্রায় পুরোটাই কোনো না কোনোভাবে পাচার করে দিয়েছেন। কেউ কেউ আমদানি-রপ্তানির আড়ালে ওভার ইনভয়েস করে তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচার করে দিয়েছেন। আর সে টাকায় সেকেন্ড হোম গড়েছেন অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে। সেখানে তারা পাচার করা টাকায় বিলাসী-জীবন যাপন করছেন। সম্প্রতি শতাধিক ঋণখেলাপির বিষয়ে তদন্ত করে এমন প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এদের তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংককেও দেওয়া হয়েছে। কমিশন মনে করে, অনেকেই পাচারের উদ্দেশ্যে ঋণ নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ ব্যাংকের সঙ্গে প্রতারণা করে ভুয়া নাম-ঠিকানা, নামসর্বস্ব কোম্পানির  সাইনবোর্ড, ভুয়া দলিল-দস্তাবেজ ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা মেরে দিয়েছেন। বছরের পর বছর তা আর পরিশোধ করেননি। বরং সে টাকা বিদেশে নিরাপদে পাচার করে দিয়েছেন। এসব ঋণখেলাপিকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার কথা ভাবছে সরকার। যারা ইতিমধ্যে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন তাদের ব্যাপারেও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধবিষয়ক সংস্থাগুলোর কাছে সহায়তাও চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া খেলাপি ঋণ তুলতে সর্বময় ক্ষমতা দিয়ে কঠোর একটি নতুন আইন করা হচ্ছে। এ আইনে যেসব ব্যাংক খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যর্থ হবে, তা আদায়ের ভার দেওয়া হবে সরকারের প্রস্তাবিত নতুন সংস্থা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশনকে। সরকারের বিশেষায়িত এই আর্থিক প্রতিষ্ঠান খেলাপি ঋণ আদায়ে সম্ভব সব ধরনের ক্ষমতা পাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজন মনে করলে ঋণখেলাপির ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠানও বিক্রি করে দিতে কিংবা লিজ দিতে পারবে। ঋণখেলাপির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দখল, পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তন, ঋণ পুনর্গঠনও করতে পারবে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক মিলে ‘বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন আইন, ২০২০’ নামে একটি আইনের খসড়াও ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করেছে। অন্যদিকে ঋণখেলাপিদের সামাজিকভাবে বয়কট ও হেয় প্রতিপন্ন করতে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ২০০৯ সংশোধন করা হচ্ছে। এরা যাতে বিলাসবহুলভাবে বিদেশ ভ্রমণ না করতে পারে সেজন্য তাদের তালিকা পাঠানো হবে বিমান কর্তৃপক্ষের কাছে। নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে এদের ট্রেড লাইসেন্স, গাড়ি ও বাড়ি রেজিস্ট্রেশন এবং ব্যবসা নিবন্ধনে। শুধু তাই নয়, খেলাপিদের যেসব পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং জেনারেল ম্যানেজার সুবিধা দেবেন তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। এ ধরনের কঠোর বিধান রেখে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ সংশোধন করছে সরকার। খসড়া আইনে, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের যাতে সামাজিকভাবে বয়কট করা হয় সেজন্য রাখা হয়েছে বিশেষ বিধান। জানা গেছে, ঋণখেলাপি সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা সত্ত্বেও খেলাপি ঋণ কমছে না। দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্টের সুবিধা খেলাপি ঋণ নিয়মিতকরণের সুযোগ দেওয়া হলেও খেলাপি ঋণ কমাতে তা তেমন কোনো কাজে আসেনি। এজন্য স্বভাবজাত ঋণখেলাপিদের ধরতে এ-সংক্রান্ত আইনগুলোয় কঠোর ধারা যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং কমিশন ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। ব্যাংক যেসব খেলাপি ঋণ আদায় করতে পারবে না, সেগুলো অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন আদায় করবে। এতে খেলাপি ঋণ অনেক কমে যাবে। এজন্য অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশনকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। আইনটি করতে মালয়েশিয়া, কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের আইন পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ২০০২ সাল থেকে এই চার দেশ খেলাপি ঋণ আদায়ে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট আইন দিয়ে সফল হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়সংক্রান্ত এখন পর্যন্ত নেওয়া উদ্যোগগুলো তেমন কোনো কাজে আসেনি। তবে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন করার কথা শোনা যাচ্ছে। এসব উদ্যোগ কতটা সফল হবে তা নির্ভর করছে সরকার এগুলো কতটা বাস্তবায়ন করতে পারবে তার ওপর। কেননা কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা ছাড়া এ মুহূর্তে খেলাপি কমিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব।
এদিকে দেশের ব্যাংকগুলো ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে পাওনা টাকা আদায় করতে পারছে না। কিন্তু কাগজে-কলমে এবার খেলাপি ঋণের পরিমাণ কম দেখানো হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, তিন মাসের ব্যবধানে ২২ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ কমিয়ে ফেলেছে ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। আর ডিসেম্বরে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছ ৯৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, প্রকৃতপক্ষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে ১০ লাখ ১১ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গছে, যা মোট ঋণের ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। আর সংসদে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, দেশের শীর্ষ ঋণখেলাপি গ্রাহক রয়েছে একাধিক গার্মেন্ট কোম্পানি। আছে চামড়াজাত পণ্য প্রস্তুতকারক কোম্পানিও। এ দুটি খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে। এরাই ঋণের টাকা বিদেশে পাচার করেছে বলে মনে করে দুদক। সংসদে অর্থমন্ত্রীর প্রকাশিত ঋণখেলাপির তালিকায় বেশকিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এদিকে ব্যাংকের টাকা মেরে বিদেশে বিলাসী-জীবন যাপন করছেন এদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত পি কে হালদার, ইসা বাদশা ও মুসা বাদশা। এর বাইরে অন্তত ২০০ জনের একটি তালিকা নিয়ে কাজ করছে দুদক, এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংক। যারা বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে বিদেশে পাচার করে দিয়েছেন। এদের অনেকেই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন।